তাড়াশে ব্রিজের মুখে নেটিং করে মাছ চাষ, স্থানীয়দের বিক্ষোভ

মতামত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ব্রিজের মুখে নেটিং করে মাছ চাষ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করায় শিক্ষাস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিসউক) নামে একটি জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার সকালে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের দেবীপুর আঞ্চলিক সড়কের একটি ব্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকল্প বন্ধের দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এদিকে একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তারা।

বিক্ষুব্ধ গোলবার হোসেন, আসিফ আলী, জামাল উদ্দিন, মাসুদ রানা, আজিম উদ্দিন, মতিউর রহমান, শাহ আলম, আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, ইউসুব আলী, রাজ্জাক আলী, কাবিল উদ্দিন বলেন, নওগাঁ ইউনিয়নের দেবীপুর মৌজার দেবিপুর ব্রিজ ও নলুয়া কান্দি ব্রিজের মুখে ইতোমধ্যে লোহার নেটিং করা হয়ে গেছে। হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৬নং ব্রিজেও ইউক্যালিপটাস গাছের ছোট-ছোট কাঠের গুল পুঁতে নেটিং করার পায়তারা চলছে। ওই তিনটি ব্রিজের মুখে নেটিং করে মাছ চাষ করা হলে বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি হবে। ফলে দেবীপুর মৌজাসহ আশাপাশের কৃষকের প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমির রবিশষ্য আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় ৫ শতাধিক জেলে পরিবার বর্ষাকালে চলনবিলের দেবীপুর মৌজা এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। নেটিং করে মাছ চাষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে জেলে পরিবারগুলোর বর্ষা মৌসুমে তিন বেলা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। মাছ চাষ করে কতিপয় প্রভাবশালী লাভবান হলেও বেশির ভাগ কৃষকই ক্ষতির মুখে পড়বেন।

শিক্ষাস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিসউক) এর কর্মসূচি পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, নেটিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হলে পানি প্রবাহের পথে কোন রকমের বাধার সৃষ্টি হবে না। তাছাড়া বেশিরভাগ জমি মালিকদের মতামতের ভিত্তিতেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, ব্রিজের মুখে নেটিং করে মাছ চাষ করলে নিশ্চিতভাবে বন্যার পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হবে। ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকহারে কমে যাবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান বলেন, জন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয় এমন কোন প্রকল্পই বাস্তবায়ন করা যাবে না। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক