এরশাদের চিকিৎসার অর্থ ‘যোগাড় করতে পারেনি’ জাপা

রাজনীতি

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকা দলীয় চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পারার কথা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ।

তিনি বলেছেন, “অসুস্থ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিএমএইচে আছেন। এরশাদ সাহেব আজ মৃত্যুশয্যায় আছেন। উনার চিকিৎসার জন্য যে টাকার প্রয়োজন, সেই সংস্থান আমরা এখন পর্যন্ত করতে পারিনি।”বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় দাঁড়িয়ে দলের চেয়ারম্যানের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি নিজেদের অক্ষমতার কথা বলেন সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ রাঙ্গাঁ।

সেনাপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর নয় বছর বাংলাদেশ শাসন করে গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত এরশাদ তার সমুদয় সম্পত্তি সম্প্রতি ট্রাস্টে জমা দিয়েছেন।

ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এরশাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নগদ টাকার পরিমাণ ২৮ লাখের মতো লিখেছিলেন।

হলফনামায় এরশাদ বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা জমা রয়েছে। বিভিন্ন শেয়ারে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা। তার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ও এফডিআর ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা; ডিপিএস রয়েছে ৯ লাখ টাকার।

এরশাদ লিখেছিলেন, গুলশান ও বারিধারায় তার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার দাম এক কোটি ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। এর বাইরে ৭৭ লাখ টাকা দামের একটি দোকান রয়েছে তার।গত বছর একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে সুস্থতা নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে ৯০ বছর বয়সী এরশাদকে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বপ্লতার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি, লিভারসহ আরও নানা জটিলতাও রয়েছে।

নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসার পর থেকে বাসায়ই থাকছিলেন তিনি, দলীয় কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন না।
গত বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সকালেই জানিয়েছিলেন তার ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেন, “আমরা উনাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাব, সেই অবস্থাটাও উনার নেই। যদি বাইরে নেওয়ার মতো অবস্থা হয়, তাহলে আমরা তার উদ্যোগ নেব। আমরা আশা করি, তিনি সুস্থ হয়ে আবার সংসদে বসবেন।”এরশাদকে নিয়ে কটাক্ষ করায় বিএনপির সমালোচনাও করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

তিনি বলেন, “অসুস্থ এরশাদ সাহেব সিএমএইচে, যমে-মানুষে টানাটানির অবস্থা বলতে পারেন, বিএনপি তাকে নিয়ে কটাক্ষ করছে ‘এই বৃদ্ধ-এই বুড়ো আর কতদিন বাঁচবে’। এ ধরনের অশালীন ভাষা বিএনপির মতো লোকেরা ব্যবহার করতে পারে?

“যে মানুষটি নয় বছর দেশ শাসন করেছে। মানুষের জন্য এক বুক পানিতে নেমে যিনি ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তার সম্পর্কে এই অশালীন ব্যবহার করে, অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য কারাগারে দেওয়া গৃহকর্মীকে প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান রাঙ্গাঁ।

“এরশাদ সাহেব যখন জেলে ছিলেন, তখন তার বাথরুমেও সিসিটিভি দিয়েছিল। যেন উনি লাফ দিয়ে জেল থেকে পালিয়ে যাবেন। মনে হত আহম্মকের স্বর্গে বাস করছে। ওই আহম্মকের স্বর্গের প্রধানমন্ত্রী জানতেন না, তাকেও জেলে যেতে হবে। এরশাদ সাহেবকে দেখভালের জন্য কোনো লোক দেওয়া হয়নি। তাহলে মেইড সার্ভেন্ট প্রত্যাহার করা উচিৎ।”

বিএনপির সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, “সংসদে আসলেন তবে দেরি করে। সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি। তারা (বিএনপি) সংসদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে সময় নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন!”বিডিনিউজ২৪