প্রশ্রয়ে রাজনীতিক-পুলিশ

এক্সক্লুসিভ

বরগুনায় প্রকাশ্যে সড়কে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড (২৫) ও তার সহযোগীরা স্থানীয় থানা পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার আশীর্বাদপুষ্ট ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের ওই নেতাদের প্রভাবশক্তির ওপর ভর করেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল তারা। নয়ন বন্ড ও তার কয়েকজন সহযোগী এর আগে বেশ কয়েকবার নানা অপরাধে জড়িয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে গেলেও তারা দ্রুতই হুমায়ন কবীর পল্টু ও মোতালেব মিয়া নামে দুই আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাইরে আসে। এই দুই আইনজীবী বরগুনাবাসীর কাছে স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আর এ কারণেই নয়ন বন্ডের বেপরোয়া আচরণে দীর্ঘদিন থেকে অতিষ্ঠ থাকলেও কেও প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি বলে ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন দেশ রূপান্তরের কাছে

অভিযোগ করেছেন।

নয়নের অন্যতম সহযোগী রিশান ও রিফাত ফরাজী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রা দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে নয়ন, রিশান ও রিফাতের নেতৃত্বে তাদের বাহিনী বরগুনা শহর দাপিয়ে বেড়াত। ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ যাকে-তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করত তারা। গতকাল শুক্রবার বরগুনা জেলা পুলিশ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, আইনজীবী এবং একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

তারা জানান, রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড বরগুনা সদর থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সোর্স হিসেবেও কাজ করত। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা আদায় করত সে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যও কৌশলে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিত। সর্বশেষ রিফাত শরীফকেও একই কৌশলে গাঁজা দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করেছিল সে।

বরগুনা জেলা পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মসজিদের ইমাম দিয়ে তো আর অপরাধী ধরা যায় না। তাই কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কৌশল হিসেবে নয়নকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করেছিল থানা পুলিশ। এই সুযোগে নয়ন বেশকিছু জায়গায় দাপট দেখিয়েছে।’

গোয়েন্দা পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল। এ কারণে কাউকে পরোয়া করত না সে। যার কারণে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার মতো ঘটনা ঘটালেও কেউ তাকে নিবৃত্ত করার সাহস পায়নি।’

২০১৭ সালের ৫ মার্চ নয়নের বাসা থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও রামদা উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা তাকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলে জানা গেছে। তবে নয়নকে পুলিশের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মাহমুদ হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নয়ন কোনোকালেই আমাদের সোর্স ছিল না। পুলিশ তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। সোর্স হলে তাকে গ্রেপ্তার করব কেন?’

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ২০১৬ সালে দেলোয়ার হোসেন বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিল এই অপরাধীরা। বিশেষ করে রিফাত ও রিশান ফরাজীকে শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় জেলা পরিষদের তহবিল থেকে। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নামে এই বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের ভায়রার দুই বখাটে ছেলে ও ছিনতাই মামলার আসামিকে এই শিক্ষাভাতা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুরি, ছিনতাই ও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে চার-পাঁচ বছর আগেই তাদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছেদ করেছি। তারা কখনই আমার রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিল না, এখনো নেই।’ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রিশান ফরাজী এসএসসিতে গোল্ডেন-এ প্লাস পেয়েছে, সেই কোটায় বৃত্তি পেয়ে থাকতে পারে। কিন্তু রিফাত পায় না।’ দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘নয়নকে বহুবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মাদকসহ। আবার সে পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করেছে বলে শুনেছি। তারপরও বারবার কোর্ট থেকে জামিন পেলে কার কী করার আছে।’

নয়নকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথের ছেলে অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী সবাই প্রায় একই বয়সী। এরা একই গ্রুপের সদস্য। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের অনুসারী। তার প্রভাব খাটিয়েই এরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে দেলোয়ার হোসেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে আমার বাবা মনোনয়ন পেলেও দেলোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছিলেন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৩ সালেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তারপর ২০১৬ সালে তাকে বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে। এরপর থেকেই নয়ন, রিশান ও রিফাতের নেতৃত্বে অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তোলে তারা।’

বরগুনা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নয়নের বিরুদ্ধে ১০-১২টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর থানায় আটটি মামলার সবকটিতে জামিন পেয়েছে সে। এসব মামলার মধ্যে দুটি মাদক আইনে, একটি অস্ত্র মামলা ও বাকি পাঁচটি মামলা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অ্যাডভোকেট পল্টু ও অ্যাডভোকেট মোতালেব নামে দুজন আইনজীবী রয়েছেন, যারা বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক অনুসারী। এই দুই আইনজীবীর মাধ্যমে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী আসামিরা জামিন নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসত। যদিও মোতালেব বর্তমানে সাংসদ শম্ভুর ঘনিষ্ঠ।’

রিফাত হত্যা মামলায় অন্য আসামিদের পরিচয় ও কীর্তি

রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী : সম্পর্কে তারা আপন ভাই। একসঙ্গেই তারা সব অপরাধ কর্মকা- পরিচালনা করত। বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকার দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে জানান, নয়ন বন্ডের ডান হাত ও বাম হাত হিসেবে কাজ করত এই দুই ভাই। মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসাই ছিল এদের মূল পেশা। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই ও ছাত্রদের মেসে ঢুকে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে রিফাত ফরাজী।

এছাড়াও এই গ্রুপের নিয়মিত সদস্য ছিল আমতলার পাড় এলাকার চন্দন, বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোড এলাকার মো. মুসা, কেওড়াবুনিয়া এলাকার কালাম আকনের ছেলে রাব্বি আকন, কলেজিয়েট স্কুল রোড এলাকার মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, কেজি স্কুল এলাকার রায়হান, একই এলাকার মো. হাসান, সোনালীপাড়া এলাকার রিফাত, একই এলাকার অলি ও টিকটক হৃদয়।

এলাকাবাসী ও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন, নয়ন ও রিফাত দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধে জড়িত থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলত না। বারবার আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ত তারা। গত বুধবার রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিফাত ও নয়নের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।

২০১৭ সালে বরগুনার হোমিও চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারাল অস্ত্রের মুখে বাসায় থাকা সব ছাত্রদের জিম্মি করে, তাদের ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে মোবাইলগুলো উদ্ধার করে।

চন্দন : রিফাত শরীফ হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত চন্দন (২১)। মামলার এজাহারে তার বিস্তারিত পরিচয় ও বাবার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তার বাড়ি বরগুনার আমতলা পাড়। নয়ন বন্ডের সাগরেদ হিসেবে সবসময় তার সঙ্গে ঘোরাফেরা করত চন্দন। তার নামেও এলাকায় অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে বরগুনা সদর থানা পুলিশ।

মো. মুসা : মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। তার বাড়ি বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে মামলায় তার বাবার নাম উল্লেখ করা হয়নি। রিফাতকে হত্যার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে সে।

মো. রাব্বি আকন : মামলার ছয় নম্বর আসামি। তার বাবার নাম কালাম আকন। বাড়ি বরগুনার কেওড়াবুনিয়ায়।

মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত : মামলার সাত নম্বর আসামি। তার বাড়ি বরগুনার কলেজিয়েট স্কুল সড়কে। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে সে এলাকায় ঘোরাফেরা করত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

রায়হান : মামলার আট নম্বর আসামি। বরগুনা কেজি স্কুল সড়কে তার বাসা। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক।

মো. হাসান : মামলার নয় নম্বর আসামি। শহরের কলেজ রোড এলাকায় বাসা। বাবার নাম এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পর তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রিফাত : রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এই রিফাতও ১০ নম্বর আসামি। তার বাড়ি সোনালীপাড়ায়। তবে ঘটনার পর থেকেই সে এলাকা ছাড়া।

অলি : সোনালীপাড়ারই আরেক যুবক অলি এই হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি। হত্যাকা-ের সময় রিফাত শরীফকে বরগুনা কলেজ থেকে টেনে বের করে আনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী গ্রুপের অন্যতম সদস্য ও তাদের সহযোগী। ঘটনার পর থেকেই পলাতক।

টিকটক হৃদয় : মামলার ১২ নম্বর আসামি। তার বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

রিফাত হত্যার আসামিদের সম্পর্কে জানতে চাইলে বরগুনা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘এরা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আইনে ফাঁকফোকর দিয়ে মুক্ত হয়ে যায়। বারবার এ ধরনের সুযোগ পাওয়ার ফলে এরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে।’

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করে একদল যুবক। রিফাতকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শরীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে রিফাতের মৃত্যু হয়। ওই হামলার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক চড়াও হয়েছে রিফাতের ওপর, এর মধ্যে দুজন রামদা হাতে তাকে একের পর এক আঘাত করে চলেছে। আর রিফাতকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছিলেন তার স্ত্রী। কিন্তু প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও তিনি ব্যর্থ হন। রিফাতের স্ত্রীর চিৎকারে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। হামলাকারী যুবকরা রিফাতকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে সবার সামনে দিয়েই হেঁটে চলে যায়।সূত্রঃ দেশ রূপান্তর