সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস রাখলে ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে হার্ট ভাল থাকবে : ডা. দেবী শেঠী

লাইফস্টাইল

ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে চললে ও সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস রাখলে হার্ট ভাল থাকবে বলে জানিয়েছেন ভারতের ব্যাঙালুরুর নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা, খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী।

তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে ভালো রাখে, আপনি যেই ধর্মেরই হোন না কেন, ধার্মিক হোন। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস রাখুন। আপনাকে আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে হবে না, শুধু ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে চলুন। প্রতিদিন কাজ শুরু করার আগে গডকে বলুন। কাজ শেষ করে গডকে ধন্যবাদ দিন। ভেরি সিম্পল। আপনি ভালো থাকবেন।

ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় ভারত বাংলাদেশের মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি তিনগুণ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২০ গুন বেশি মন্তব্য করে বলেছেন, বংশানুক্রমিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষ হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের সন্নিকটস্থ ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় ভারত বাংলাদেশের মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি তিনগুণ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২০ গুন বেশি রয়েছে জানিয়ে ডা. দেবী শেঠী বলেন, বংশানুক্রমিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষ হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

তবে চট্টগ্রামে গতকাল থেকে চালু হওয়া ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে স্থাপিত বিশ্বের সর্বাধুনিক একটি সিটি স্ক্যান মেশিনের কথা উল্লেখ করে ডাক্তার দেবী শেঠী বলেন, এই মেশিনের সাহায্যে মাত্র তিন সেকেন্ডেই একজন মানুষের আগামী ২০ বছরের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে কিনা তা বলে দেয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় হৃদরোগ হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের রোগ, ৬০-৬৫ বছর বয়সের পরে দেখা দেয়। আর এই অঞ্চলে হৃদরোগ হচ্ছে যুবকদের রোগ, ৪০ এর আগে পরেই হৃদরোগে আক্রান্তের ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ইউরোপ আমেরিকায় সন্তানেরা বৃদ্ধ পিতা-মাতাদের হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়, আর এই অঞ্চলে বৃদ্ধ পিতা-মাতা সন্তানদের হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে ছুটেন।

ডা. দেবী শেঠী বলেন, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচারের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। নিয়মিত হাঁটা এবং ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষ ব্যায়াম করতে চান না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডাক্তার দেবী শেঠী ভাজা পোড়া না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তেলে ভাজা খাবার হৃদরোগ ত্বরান্বিত করে। যে কোন ধরনের জাঙ্ক ফুড হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ধুমপান হৃদরোগকে আমন্ত্রণ জানায়। বাংলাদেশ এবং ভারতে অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সের লোকজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।