ইংল্যান্ডকে ইচ্ছে করেই জিতিয়ে দিল ভারত, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা

ভারতীয় আগ্রাশন

বার্মিংহামে ইংল্যান্ড বনাম ভারতের এই ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে ইংলিশদের হার প্রার্থনা করছিল এই তিন দেশ। তবে এমন একটি ম্যাচেই ভারতের শেষমূহুর্তের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে অবাক হয়েছে ক্রিকেটবিশ্ব।

বার্মিংহামে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ৩৩৮ রানের জবাবে শুরু থেকেই ঝিমিয়ে ব্যাটিং করছিল ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে শেষ ১০ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য ১০২ রান প্রয়োজন ছিল। হিসেবটা কঠিন হলেও আধুনিক ক্রিকেটের হিসেবে বেশ সহজই ছিল যখন ক্রিজে দুই বিধ্বংসী ফিনিশার হার্দিক পান্ডিয়া ও ধোনি ব্যাটিং করছিল।

তবে ধোনি, পান্ডিয়া ও কেদার যাদাবদের জন্য ভিন্ন রুপ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। জয়ের জন্য ওভারপ্রতি ১০ রান করে প্রয়োজন হলেও ধোনি-যাদাব প্রতি ওভারে নিলেন ৬ রান করে। বল প্রতি এক রান নেওয়াই যেনো উদ্দেশ্য ছিল এই দুই ব্যাটসম্যানের। এমনকি ইনিংসের ৪৯তম ওভার পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের কোনো শারিরিক ভঙ্গিও চোখে পড়ল না ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে।

একদম হার নিশ্চিত করে ইনিংসের ৫০তম ওভারে এসে হাকানোর চেষ্টা করলেন ধোনি। সেই ওভারে নিলেন ৪০ থেকে ৫০ ওভারের মাঝবর্তী ১০ ওভারের সর্বোচ্চ ১২ রান। ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০৬ রানে থামলো ভারতের ইনিংস। ধোনি ৩১ বলে ৪২ ও কেদার যাদাব ১২ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থেকে গেলেন।

উল্লেখ্য, এই হারের পরও ৭ ম্যাচ শেষে ৫ জয় ও এক ড্র’য়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ২য় স্থানে অবস্থান করছে ভারত। সেমিফাইনাল থেকে তাদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীন। কারণ নেট রান রেটে সেমির দৌড়ে পাল্লা দেওয়া বাকি পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার থেকে বহুগুনে এগিয়ে আছে তারা। তাই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় তুলে নিলেও ভারতকে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে টপকে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে এই ম্যাচ হারের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশি সর্মথকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি ইচ্ছে করেই ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দিল ভারত? কারণ এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপে সেমিফাইলে যাওয়ার স্বপ্ন কঠিন হয়ে গেল পাকিস্তানের। আর ভারত বিশ্বকাপের আগ থেকেই কাশ্মিরের সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানকে কোনঠাসা করতে চেয়েছিল।