মানবাধিকার কর্মীদের আন্দোলনের মুখে অস্ত্র ছাড়াই ফ্রান্স ছাড়ল সৌদি জাহাজ

আন্তজার্তিক

ফ্রান্স থেকে অস্ত্র বোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নৌযানের। কিন্তু অস্ত্রের কার্গো ছাড়াই লে হাভরে বন্দর ছাড়তে হয়েছে সেটিকে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের স্যানট্যানডারের দিকে পাল উড়িয়েছে।-খবর রয়টার্সের

মামলা দায়েরের মাধ্যমে জাহাজটিতে অস্ত্র বোঝাই ঠেকাতে চেয়েছিল ফ্রান্সের দুটি মানবাধিকার সংস্থা। তাদের অভিযোগ, এতে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির লঙ্ঘন ঘটবে।

একজন ফরাসি বিচারক তাদের সে অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। কিন্তু বাহরি-ইয়ানবু নামের জাহাজটি এর কিছু পরেই লে হাভরে বন্দর ছেড়ে চলে গেছে।

মানবাধিকার সংগঠন এসিএটির আইনজীবীর লোরেন্স গ্রেইগ বলেন, জাহাজটি চলে গেছে। তারা কোনো অস্ত্র নেয়নি। এটা নির্বাহীদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। কারণ আমরা আইনিভাবে তাদের অস্ত্র বোঝাই থামাতে চেয়েছি।

কয়েক সপ্তাহ আগে একটি অনুসন্ধানীমূলক অনলাইনে ফরাসি গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করলে তাতে দেখা গেছে, ট্যাংক, লেসার-গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ সৌদি আরব এসব অস্ত্র ক্রয় করে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

সৌদি আরবে অস্ত্র সরবরাহ করা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রান্স। কিন্তু রিয়াদের কাছে অস্ত্র বিক্রয় পুনর্বিবেচনা করতে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে প্যারিস।

গত চার বছরের যুদ্ধে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশটির লোকজন এখন দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি।

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে ইয়েমেন। দেশটিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে ফ্রান্স। ওই চুক্তি অনুসারে প্রচলিত অস্ত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে এমন কারও কাছে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।