আমেরিকার ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ প্রত্যাখান হিজবুল্লাহর

আন্তজার্তিক

আমেরিকার ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ প্রত্যাখান হিজবুল্লাহর

ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের চলমান সমস্যা সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ নামে যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা প্রত্যাখান করেছেন লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ।শনিবার রাতে আল মানার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন,আমেরিকা ‘শতাব্দীর সেরা সমঝোতা’র মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইস্যু চিরতরে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে।ফিলিস্তিনকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যেই ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ নামে একটি নাটক সাজিয়েছে আমেরিকা।মুসলিম দেশগুলোর উচিত এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা।

কুদস দিবসকে ‘ট্রাম্পের চুক্তিবিরোধী’ দিবস হিসেবে পালন করারও আহ্বান জানিয়ে িহিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন,ফিলিস্তিনের সমস্যা সমাধাণ করতে হলে সবার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন,আমেরিকার ‘শতাব্দীর সেরা সমঝোতা’র অন্যতম লক্ষ্য হলো লেবাননে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে লেবাননের বাসিন্দা বানানো। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।

হাসান নাসরুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, আগামী মাসে বাহরাইনে আমেরিকার উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলন থেকে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ বাস্তবায়নের চেষ্টা হতে পারে।এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত ট্রাম্পের ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’তে বলা হয়েছে,ইসরাইল, পিএলও এবং হামাসের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ফিলিস্তিন নামে কোনও দেশ থাকবে না।

চুক্তি অনুযায়ী, নতুন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের নাম হবে নিউ প্যালেস্টাইন। গাজা উপত্যকা, যিহূদিয়া পার্বত্য এলাকা এবং পশ্চিম তীরের সামারিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত হবে নিউ প্যালেস্টাইন। তবে পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর ওপর তার কোনও সার্বভৌমত্ব থাকবে না।

জেরুজালেম নগরী নিয়ে কোনও ভাগাভাগি হবে না। বরং এটি হবে নিউ প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েল উভয় দেশের রাজধানী। নগরীর আরব বাসিন্দারা নিউ প্যালেস্টাইনের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। আর ইহুদিরা ইসরাইলি নাগরিক হিসেবে সেখানে বসবাস করবেন।

ইহুদিরা আরবদের ঘরবাড়ি কিনতে পারবে না। আরবরাও ইহুদিদের বাড়িঘর কিনতে পারবে না। জেরুজালেমে নতুন আর কোনও এলাকা দখল করা হবে না। পবিত্র স্থানগুলোর বিদ্যমান অবস্থা বজায় থাকবে।

উভয় দেশের অখণ্ড রাজধানী জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসরায়েলের জেরুজালেম পৌরসভার হাতে। তবে সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে। ইসরাইলের জেরুজালেম পৌরসভার কাছে ট্যাক্স ও পানির বিল সরবরাহ করবে নিউ প্যালেস্টাইন।

ফিলিস্তিনে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য মিসর নতুন জমি দেবে। কলকারখানা নির্মাণ, বাণিজ্যিক ও কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্যও নতুন ভূখণ্ড দেবে মিসর। তবে ফিলিস্তিনিরা এখানে বসবাসের সুযোগ পাবে না।

লিজ বাবদ মিসরকে মূল্য পরিশোধ করবে নিউ ফিলিস্তিন। লিজ বাবদ ঠিক কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হবে তা নির্ধারণ করে দেবে মধ্যস্থতাকারী ও সহযোগী দেশগুলো।