পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪

আন্তজার্তিক

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণায় বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে। দলীয় পতাকা সরানোকে কেন্দ্র করে সন্দেশখালির নাইজাটে দু’পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে। শনিবার সন্দেশখালির নেজাট থানা এলাকার হাটগাছি অঞ্চলে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গুলি বিনিময়ে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া গুলির সঙ্গেই মুহুর্মুহু বোমাবাজিও চলতে থাকে।

জানা যায়, শনিবার বিজেপির পতাকা খুলতে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন। এতে বাধা দেয় বিজেপি কর্মীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষই পরস্পরের প্রতি গুলিবর্ষণ শুরু করে।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২৬ বছর বয়সী কাইয়ুম মোল্লা নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি তৃণমূলের কর্মী বলে জানা গেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু দাবি করেছেন, সংঘর্ষে তাদের দলের পাঁচ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, পাঁচ বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং এদের মধ্যে তিনজনের লাশ পাওয়া গিয়েছে। বাকি দু’জনের লাশ পুলিশ ‘সরিয়ে ফেলেছে’ বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে।

এ ছাড়া আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ওই চারজনের মধ্যে শঙ্কর মণ্ডল এবং দেবদাস মণ্ডল নামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগণার তৃণমূল কংগ্রেসর জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, আমাদের এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিজেপির কর্মীরা তাকে মেরে ফেলেছে। তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। বিজেপি যদি হত্যার রাজনীতি শুরু করে তাহলে আমরাও ছাড়ব না।

এই ঘটনায় সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তাদের কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত ৬ বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে তাদের ৫৪ জন কর্মীর ‘মৃত্যু হয়েছে’ বলে অভিযোগ বিজেপির।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র দুটি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। তবে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে তা বেড়ে হয়েছে ১৮টি। অন্যদিকে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে ২২টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্য ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৩৪টি আসন।